Site icon Parthokko.com.bd | পার্থক্য | Difference Between

দেহকোষ ও জননকোষের মধ্যে পার্থক্য

দেহকোষ ও জননকোষের

দেহকোষ (Somatic cell):

দেহকোষ হলো এমন ধরনের জৈবিক কোষ যা কোনও জীবের দেহ গঠন করে। এটি বহুকোষী জীবের মধ্যে গ্যামেট, জনন মাতৃকোষ, গ্যামিটোসাইট বা অবিচ্ছিন্ন ভাজক কোষ ব্যতীত অন্য যেকোন ধরনের কোষ হতে পারে। বিপরীতে, গ্যামেট হল সেই কোষ যা যৌন প্রজননের সময় একীভূত হয়, জনন মাতৃকোষ হল এমন কোষ যা গ্যামেট উৎপন্ন করে। এবং স্টেম কোষ হল এমন কোষ যা মাইটোসিসের মাধ্যমে বিভাজন করতে পারে এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত কোষে আলাদা হতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, স্তন্যপায়ী প্রাণীতে, দেহকোষগুলি সমস্ত অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, ত্বক, হাড়, রক্ত এবং যোজক কলা তৈরি করে,যখন স্তন্যপায়ীদের জনন মাতৃকোষ শুক্রাণু এবং ডিম্বাণুর জন্ম দেয় যা নিষেকের সময় জাইগোট নামক একটি কোষ তৈরি করতে একীভূত হয় ,যা বিভাজিত হয় এবং একটি ভ্রূণের বিভিন্ন কোষে বিভক্ত হয়। মানবদেহে প্রায় ২২০ ধরনের দেহকোষ রয়েছে।

জননকোষ (Germ cell):

বহুকোষী জীবের যে সকল কোষ শুধু জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে, সেগুলোকে জনন কোষ বলে। জনন কোষ দুই প্রকার, যথা- শুক্রানু ও ডিম্বানু। এরা মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে শুক্রাণু মাত্রকোষ ও ডিম্বানু মাতৃকোষ হতে সৃষ্টি হয়। অতএব, দেহগঠনকারী কোষকে দেহকোষ এবং জনন কাজে অংশগ্রহণকারী কোষকে জনন কোষ বলে। পুরুষ জনন কোষকে শুক্রাণু এবং স্ত্রী জননকোষকে ডিম্বাণু বলে।

দেহকোষ ও জননকোষের মধ্যে পার্থক্যঃ

বহুকোষী জীবের যে সকল কোষ শুধু জনন কাজে অংশ গ্রহণ করে, সেগুলোকে জনন কোষ বলে। দেহকোষ ও জননকোষের মধ্যে পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হয়েছে-

১। জীবের দেহ গঠনে অংশ নেয় অর্থাৎ এই কোষ দ্বারা জীবদেহের সমস্ত অঙ্গ প্রতাঙ্গ গঠিত। অন্যদিকে, জনন কোষ হচ্ছে জীবের প্রজননের জন্য গঠিত বিশেষ কোষ।

২। দেহকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা ২n অর্থাৎ ডিপ্লয়েড। অন্যদিকে, জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা n অর্থাৎ হ্যাপ্লয়েড।

৩। জনন অঙ্গও দেহকোষ দ্বারা গঠিত। অন্যদিকে, জননকোষ শুধুমাত্র ডিম্বাণু বা শুক্রাণু বা উদ্ভদের ক্ষেত্রে পরাগরেণূ বা স্পোর।

৪। নিম্নশ্রেণির জীবেও দেহকোষ দ্বারা জনন হতে পারে। বিশেষ করে এককোষী জীবদের। যেমন এমিবা বা ব্যাকটেরিয়া। অন্যদিকে, শুধুমাত্র উচ্চশ্রেণির জীবের প্রজননে দেখা যায়। এবং স্ত্রী ও পুং দেহে শুধু ডিম্বানু বা শুক্রানু উৎপন্ন হয়। তবে ছত্রাক বা উভয়লিঙ্গ জীব বা উদ্ভিদে একই দেহে উৎপন্ন হতে পারে।

৫। দেহকোষ নিশ্চল। রক্তকোষ প্রবাহিত হয় মাত্র। তবে শ্বেতকণিকা সামান স্থানান্তর হতে পারে যা শুধু কোষের অভ্যান্তরে প্রবেশক্ষমতাটুকু।অন্যদিকে, জননকোষের শুক্রানু সচল তবে ডিম্বানু নিশ্চল। এছাড়া জুস্পোরও সচল।

Exit mobile version